বুধবার, ১৮ মে, ২০১৬

কাহালুর সাদা মনের মানুষ খ্যাত আঃ রাজ্জাক বগুড়া জেলার শ্রেষ্ট অধ্যক্ষ নির্বাচিত

কাহালু উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের একজন প্রিয় মানুষ অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আঃ রাজ্জাক৷ উপজেলার অধিকাংশ মানুষের কাছে তিনি একজন সাদা মনের মানুষ৷ এই সাদা মনের মানুষটিই জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সকল গুন বিচারে বগুড়া জেলার মধ্যে শ্রেষ্ট অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন৷ প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে ও দ্বিতীয় ধাপে তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট অধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেন৷ এই সু-খবরে গতকাল সোমবার তার কর্মস্থল কাহালু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছুটে আসেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, স্থানীয় সাংবাদিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ৷ এখানে ছুটে আসা সবাই মনে করেন আঃ রাজ্জাক একজন ভালো শিক্ষক হিসেবে তার কর্ম জীবনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সু-শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নে বহু অবদান রেখেছেন৷ তার আনন্দের এই বার্তা পেয়ে আমরা সবাই গর্বিত৷ আঃ রাজ্জাক ১৯৫৮ সালের ১ নভেম্বর কাহালু বাজারের এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন৷ কাহালু বাজারের সনামধন্য মরহুম বাহার উদ্দিনের ৬ ছেলে-মেয়ের মধ্যে আঃ রাজ্জাক ৪র্থ সন্তান৷ তার বড় দু-ভাই মরহুম আবুল কাশেম ও আঃ রশিদ বুলু মুক্তিযোদ্ধা৷ তার ছোট ভাই তাজুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী ও দু-বোন গৃহনী৷ তার দু-ছেলে-মেয়ে সামিয়া পারভীন ও রাবি্ব ইসলাম রাস্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছেন৷ তার ভগি্নপতি মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ হোসেন আলীর অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত এই কাহালু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটি৷ এই কলেজে ১৯৮৪ সালে প্রভাষক হিসেবে এবং ২০১৫ সালের ১৯ অক্টবরে আঃ রাজ্জাক অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান৷ তিনি কাহালু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি, কাহালু ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ এস সি, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে অনার্স ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স করেন৷ পড়াশুনা শেষ করে তিনি অন্য কোনো পেশায় না গিয়ে এই শিক্ষকতা পেশা বেছে নেন৷ কাহালু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাধিক শিক্ষক/কর্মচারী জানান, রাজ্জাক স্যার এই কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও প্রতিটি শিক্ষার্থীর সু-শিক্ষার জন্য সব সময় সচেষ্ট৷ কোনো শিক্ষার্থী যদি কলেজে না আসে রাজ্জাক স্যার সেই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করেন৷ শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য তিনি শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে মাঝে-মধ্যেই মতবিনিময় করেন৷ শিক্ষক/কর্মচারীরা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করছেন কি-না? তা সব সময় তিনি নিজেই পর্যবেক্ষন করেন৷ বেশ কয়েকটি বিষয়ে অনার্স খোলার বিষয়ে তিনি যতেষ্ট অবদান রাখেন৷ অনার্সের অবকাঠামো নির্মার্ণে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন৷ কলেজের প্রায় সকল শিক্ষক/কর্মচারীদের মতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কোনো কোনোভাবে অনিয়ম থাকলেও এই কলেজে আঃ রাজ্জাকের কোনো অনিয়ম নেই৷ কলেজের আর্থিক বিষয় গুলোও শতভাগ সচ্ছতার সাক্ষর রেখেছেন তিনি৷ এছাড়াও শিক্ষক/কর্মচারীর অনিয়মের বিষয়ে অনেকটা কঠোর৷ আবার শিক্ষক/কর্মচারীকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে অনেকটা বিনয়ী এই সাদা মনের মানুষটি৷ যারফলে তার এই খুশির খবরে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গতকাল কলেজে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ৷ আঃ রাজ্জাক জানান, তার নিজের জন্য কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই৷ তার একটিই চাওয়া-পাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থী সু-শিক্ষা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ও দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যানে যেন তারা অবদান রাখতে পারে৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মার্ণে যাতে এই শিক্ষার্থীরাই বড় ধরনের ভুমিকা রাখতে পারে৷

0 comments: