আগামী ২৮ মে কাহালু উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন৷ শেষ
সময়ে সকল প্রার্থী ও তাদের কর্মি-সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারনায় এখন মশগুল৷ ৫
ইউনিয়নে জামায়াত প্রার্থীদের পক্ষে আত্নগোপনে থাকা জামায়াত-শিবিরের
নেতা-কর্মিরা এখন সক্রিয়ভাবে প্রচারনায় অংশ নিয়েছে৷ জামায়াতের মহিলা
কর্মিদের নামানো হয়েছে প্রচারের জন্য৷ জানা গেছে উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৭
ইউনিয়নে জামায়াত নেতা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলো৷ কালাই
ইউনিয়ন ও মুরইল ইউনিয়নে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয় জামায়াত নেতা জহুরুল
ও আঃ জলিল৷ জামায়াত নেতার প্রার্থীতা প্রত্যাহার নিয়ে নানা গুঞ্জন এখনো
রয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মি ও সাধারন মানুষের মধ্যে৷ অত্র উপজেলায়
আওয়ামীলীগের ২ টি গ্রুপের মধ্যে একটি গ্রুপের শীর্ষ নেতার সঙ্গে-উপজেলা
চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মাওঃ তায়েব আলীর সু-সম্পর্ক রয়েছে৷ যারফলে এই
দুজনের গোপন বৈঠকে জামায়াতের এই দু-নেতা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়৷
বীরকেদার, নারহট্ট, কাহালু সদর, মালঞ্চা ও জামগ্রাম ইউনিয়নে জাময়াতের
শক্তিশালী প্রার্থী সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন৷
নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার ভয়ে জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতা-কর্মি ছিলো
আত্নগোপনে৷ আত্নগোপনে থাকা নেতা-কর্মিরা এখন এই ৫ ইউনিয়নে জামায়াত
প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারনায় অংশ নিয়েছে৷ এই ইউনিয়ন গুলোতে
প্রচারনার জন্য নামানো হয়েছে জামায়াতের অসংখ্য মহিলা কর্মিকে৷ বিশেষ করে
কাহালু সদর ইউনিয়নে উপজেলা জাময়াতের আমীর মাওঃ আব্দুল মোমেন চেয়ারম্যান পদে
প্রতিদ্বন্দিতা করছেন৷ এখানে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মিদের
পাশাপাশি বহিরাগতরাও প্রচারে অংশ নিচ্ছে৷ নারহট্ট ইউনিয়নে জামায়াতের উপজেলা
শাখার সাবেক সেক্রেটারী মাঃ শহিদুল্লা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন৷
সেখানে তার পক্ষে আত্নগোপনে থাকা জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মিরা প্রচারে অংশ
নিয়েছে৷ অজ্ঞাত কারনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে
প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেনা আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মিরা৷ উপজেলা
আওয়ামীলীগের নেতাদের বিভাজনের প্রভাব পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে৷
তারপরেও নারহট্ট, মুরইল, ও মালঞ্চা ইউনিয়নে ভালো অবস্থানে রয়েছে আওয়ামীলীগ
প্রার্থী৷ অপরদিকে কাহালু সদর ও কালাই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের চেয়ে
আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই ভালো অবস্থানে রয়েছে৷ জামগ্রাম ইউনিয়নে
জামায়াত ও পাইকড় ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে আওয়ামীলীগ
প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দিতা হতে পারে সাধারন মানুষ মন্তব্য করেন৷ ইউনিয়ন
পরিষদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীরা তাদের বিজয়ের জন্য ততই
মরিয়া হয়ে উঠছে৷ প্রত্যেক প্রার্থীই ভোটারদের মন জয় করতে নানা কৌশল
অবলম্বন করছেন৷ ইতিমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুরইল, মালঞ্চা ইউনিয়নে
অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে৷ সমপ্রতি মালঞ্চা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আব্দুল
হাকিমের সভা ভুন্ডুলের জন্য গিয়ে গণরোষে পড়ে আওয়ামীলীগ কর্মি ও তার
সহযোগীরা৷ গত রবিবার ভোরে মুরইল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী হারেজ উদ্দিনের
একটি নির্বাচনী অফিস পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা৷ এঘটনার জন্য আওয়ামীলীগের
বিদ্রোহী প্রার্থী মকিবুল ইসলাম বুলুকে দায়ী করে বিক্ষুব্দ কর্মি-সর্মথকরা
মুরইল বাসস্ট্যান্ডে বুলুর বিরুদ্ধে মানব বন্ধন করে৷ এই দুটি ঘটনা পুলিশ
তাত্ক্ষনিকভাবে মোকাবেলা করলেও আওয়ামীলীগ প্রার্থীর অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার
ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি৷ সমপ্রতি নারহট্ট ইউনিয়নে কল্যানপুরে আওয়ামীলীগ,
বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মিছিলের প্রস্ততি নিলে এক উত্তেজকর পরিস্থি
সৃষ্টি হয়৷ তাত্ক্ষনিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা মোকাবেল করে কোনো দলের
প্রার্থীর পক্ষেই মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ৷ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন
সম্পাদক আব্দুল মান্নান জানান, যারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেনা তাদের
মান অভিমান ভাঙ্গতে আমি নিজে তাদের বাড়িতে গিয়েছি৷ কাহালু থানার অফিসরা
ইনচার্জ (ওসি) নুর এ আলম সিদ্দিকী জানান, নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃংঙ্খলা
পরিস্থিতির অবনতি ঘটনার কেউ চেষ্টা করলে তাকে ছার দেওয়া হবেনা৷
0 comments: