
কাহালু উপজেলায় শনিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে কয়েকটি গ্রামের
ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে, গাছপালা উপড়ে গেছে, বিদ্যুতের খুঁটি হেলে তার ছিঁড়ে
গেছে, বাড়িঘর ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের টিনের ছাপড়া ওড়ে যাওয়া সহ কয়েকটি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল ওড়ে গেছে। ঝড়ের পর শিলাবৃষ্টি
হয়েছে। রাত থেকে কাহালু পিডিবির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। রোববার উপজেলায়
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়োবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারটি
শ্রেণি কক্ষের টিন দিয়ে ঘেরা ও টিনের চালও ওড়ে গেছে। এ ছাড়াও বামুজা সিনিয়র
ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, আল্লামের তাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং পাঁচপীর
মাজার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং বীরকেদার বারোমাইল নামক স্থানে স্থানীয়
দুটি চাতালের গুদামের টিনের ছাপড়া সহ কাগজের কারখানার একটি বড় অংশের টিনের
ছাউনি ওড়ে যায়। সংবাদ শুনে দূর্গাপুর ইউ পির চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ হাসান
রনজু, ইউ পি সদস্য নুরুল ইসলাম নূরু, মমতাজ উদ্দিন ও আব্দুল আলিম
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন। কাহালুর বীরকেদার
গ্রামের কৃষক হাছেন আলী বলেন, এ এলাকার জমিতে আলু লাগানোর জন্য ইরি ধান
লাগাতে দেরি হয়। দিন দশেক হলো ধানকাটা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক ধান
কেটেছে কৃষক। কিন্তু হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে আর শিলাবৃষ্টিতে ধানের গাছ মাটিতে শুয়ে
পড়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে ধান নষ্ট হয়েছে। পাঁচপীর মাজার বালিকা
উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান বলেন, আমার স্কুলের
সীমানা প্রাচীর পড়ে গেছে। শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল ওড়ে গেছে। তাৎক্ষণিক
ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করা যায়নি। দুপচাঁচিয়া পিডির বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয়
বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে কয়েকটি জায়গায়
বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। রাত থেকেই শ্রমিকরা মেরামতের কাজ
করছে। এ ব্যাপারে কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ তাছলিমা খাতুন এর
সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, ‘ঝড়ে বিভিন্ন স্কুল ও বাড়িঘরের ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। পাঁচপীর এলাকায় কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে। তবে কী পরিমাণ
ক্ষতি হয়েছে তা এখনও হিসাব পাইনি।
0 comments: